1. admin@esaharanews.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন

ভারতীয় হাইকমিশনার প্রস্তাব নগদ অর্থের বিকল্প চালুর

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৯১ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা অফিস : বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নগদ অর্থের ব্যবহার তুলে দিয়ে ‘রু-পে’ কার্ড চালুর প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। কার্ডটি বিশেষ ধরনের ডুয়াল বা দ্বৈত ইন্টারফেস বৈশিষ্ট্যযুক্ত। ফলে দেশে এবং বিদেশে খুব সহজেই এর মাধ্যমে পেমেন্ট করা যাবে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে বাংলাদেশে ‘রু-পে’ কার্ড চালুর প্রস্তাব জানিয়ে চিঠি দিয়েছে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবে বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ‘রু-পে’ কার্ড ভারতে অনেক মানুষ ব্যবহার করছে। ভারত সরকার এটি বাংলাদেশে চালু করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। এ কার্ড চালু হলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের লেনদেন আরও সহজ হবে। তিনি আরও বলেছেন, ভারত এখন ক্যাশলেস (নগদহীন) সোসাইটির দিকে যাচ্ছে। ৬০ কোটি মানুষ বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল পেমেন্ট কার্ড ব্যবহার করছেন। ‘রু-পে’ কার্ড চালু হলে দুদেশের ব্যবসায়ীরা আরও সহজে পেমেন্ট পরিশোধ করতে পারবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রস্তাব পাওয়ার পর এটি পর্যালোচনা করতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ‘রু-পে’ কার্ড চালুর ব্যাপারে একটি প্রস্তাব ফাইল আকারে তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। এরপর সেটি নিয়ে একটি বৈঠক করা হবে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ইতিবাচক হলে সেটি পাঠানো হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। সেখান থেকে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ভারতের সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, ন্যাশনাল পেমেন্ট করপোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই) এবং জাপানভিত্তিক সংস্থা জেসিবি ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে ১ ডিসেম্বর এ কার্ড চালু করেছে। এটি নতুন এসবিআই ‘রু-পে’ জেসিবি প্ল্যাটিনাম কন্টাক্টলেস ডেবিট কার্ড। এ কার্ড রু-পে নেটওয়ার্কে কাজ করবে। জাপানের জেসিবি ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির একটি বিশ্বব্যাপী পেমেন্ট ব্র্যান্ড। এ সংস্থার পরিষেবাগুলোর মাধ্যমে, এসবিআইয়ের এ কার্ড দেশের বাইরে লেনদেনও বেশ সহজ করবে। এ কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকরা বিশ্বব্যাপী জেসিবির নেটওয়ার্কের সব এটিএম (অটোমেটিক টেলার মেশিন) এবং পিওএস (পয়েন্ট অফ সেল) টার্মিনালে লেনদেন করতে পারবে। কার্ডটি ভারতের সব এটিএম, পস ডিভাইস এবং ই-কমার্স ওয়েবসাইটে ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়। এটির একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক রয়েছে। যা অ্যান্টি-ফিশিং থেকে রক্ষা করে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ভারতীয় হাইকমিশনারের চিঠিতে বলা হয়েছে, রু-পে ডেবিট কার্ডগুলো বর্তমানে সর্বাধিক সুবিধাজনক। এটি ভারতে প্রথম ধরনের ডেবিট এবং ক্রেডিট কার্ড প্রদানের নেটওয়ার্ক। বর্তমানে, এটি সারা দেশে প্রায় ৬০০ আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং স্থানীয় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করেছে। কার্ডটি প্রচলনের সহায়তা করছে ভারতে আইসিআই ব্যাংক, এইচডিএফসি ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া, ব্যাংক অফ বরোদা, ইউনিয়ন ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, ক্যানারা ব্যাংক, ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া ইত্যাদি। এ কার্ড দিয়ে সহজেই শপিং, নগদ প্রত্যাহার, বিল পরিশোধ করা যায়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। প্রতিবেশী এ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বার্ষিক আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের আকার প্রায় হাজার কোটি ডলার, যার ৯০ শতাংশই আবার বাংলাদেশের আমদানি। ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৯৭৫ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়েছে দুদেশের মধ্যে। সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি ১১০ কোটি মার্কিন ডলার। বাকিটা আমদানি করা হয়েছে। আর বাংলাদেশের আমদানির প্রায় ১৪ শতাংশের উৎস ভারত। স্বাধীনতার পর থেকে দুদেশের মধ্যে নগদ অর্থে লেনদেন হচ্ছে। তবে নতুন এ কার্ড চালু করা হলে কি ধরনের সুবিধা হতে পারে বিষয়টি জানতে চাইলে জয়পুরহাট চেম্বারের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ভারতের পণ্য আমদানিকারক আব্দুল হাকিম মণ্ডল যুগান্তরকে বলেন, পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে পরিশোধকৃত অর্থের অঙ্ক অনেক বড় হয়। উদাহরণস্বরূপ এক হাজার টন চাল আমদানি করলে প্রয়োজন ৫ লাখ ডলার। এক্ষেত্রে একজন ‘রু-পে’ কার্ড হোল্ডারের লেদেনের লিমিট (সীমা) কত হবে সেটি বিবেচ্য বিষয়। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় ব্যাংকগুলোর সহায়তায় ব্যবসা-বাণিজ্য করা হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ করেই এ ধরনের কার্ড চালু করা হলে জটিলতায় পড়তে হবে। কারণ এতে আমরা অভ্যস্ত নই।

অপর ব্যবসায়ী চাল আমদানিকারক লাইক আলী যুগান্তরকে বলেন, নতুন এ ধরনের পদক্ষেপের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের তাল মেলাতে কষ্ট হবে। যদিও এটি যুগোপযোগী। তবে ব্যবহার শুরুর পর ব্যবসায়ীরা কার্ড পরিচালনায় অভ্যস্ত হলে লেনদেন আরও সহজ হতে পারে।
সুত্র : যুগান্তর

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

SJ