1. admin@esaharanews.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০২১
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জনগণ নির্বাচিত করেছে বলেই আজ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের সুযোগ পেয়েছি। এ কারণে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি আমার দল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞ।’

রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন তিনি। আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সময়টাকে আমরা এমনভাবে উদযাপন করব, যাতে সাধারণ মানুষ সুফলটা পায়।

নতুন করে করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন। বলেন, ‘করোনাভাইরাস আবার নতুন করে দেখা দিয়েছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে। এ সময় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’

১৫ আগস্ট জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডের নির্মম বর্বরতার কথা উল্লেখ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বলেন, ‘এভাবে তাকে হত্যা করা হবে, এটা বোধ হয় তিনি কখনও কল্পনাও করতে পারেননি, বিশ্বাসও করতে পারেননি। তার কারণ ছিল, বাংলাদেশের মানুষকে তিনি গভীরভাবে ভালোবেসেছিলেন।’

বঙ্গবন্ধুর শৈশবস্মৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বড় মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, সেই দীর্ঘ সংগ্রামের পথ বেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের যে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, অথচ সেই স্বাধীন দেশেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। শুধু হত্যা করে নয়, হত্যার পর ইতিহাস থেকে তার নামটা মুছে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা হলো। এখানে স্বাধীনতার ঘোষক দাঁড় করানো হলো। স্বাধীনতার নায়ক বানানো হলো। স্বাধীনতার ইতিহাস পাল্টে দেওয়া হলো।’

‘এই বাংলাদেশে এমন একটা সময় ছিল যে তার নামটা পর্যন্ত নেওয়া যেত না। তার নাম নেওয়া যেন নিষিদ্ধ ছিল। যে মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদ রক্ত দিয়েছেন, কত মা-বোন ইজ্জত দিয়েছেন, কত মানুষ আপনজন হারিয়েছেন, গৃহহারা হয়েছেন; এই যে এত বড় একটা বিশাল অবদান, সেই অবদানের মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছিলাম স্বাধীনতা। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে ৭৫-এর পর এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল যে, যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল তারা নিজেরা যে বলবে আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি; সেই কথাটা বলার মতো সাহস তাদের ছিল না। সেই সাহসটাও হারিয়ে ফেলেছিল। কারণ তাহলে নির্যাতনের শিকার হতে হতো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র জাতির পিতাকে হত্যা করে অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, তাদের চাটুকারিতা যারা করতে পারত, শুধু তারাই সবকিছুই বলতে পারত। তাদের জন্য যেন সবকিছু বলার একটা অধিকার ছিল। কিন্তু সত্যকে সত্য বলা, সত্য ইতিহাস তুলে ধরা নিষিদ্ধ ছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ, যে ভাষণ এ দেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যে ভাষণের মধ্য দিয়ে অসহযোগ আন্দোলন, সেই অসহযোগ আন্দোলনকে সশস্ত্র বিপ্লবে রূপ দিয়েছিল; সেই ভাষণও নিষিদ্ধ ছিল। আজ জাতির পিতার জন্মদিন আমরা পালন করছি। আমি বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি আমার দল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞ।’

তিনি আরও বলেন, আজ আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পেরেছি। এ কারণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করার সুযোগ পেয়েছি।

‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি পালন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে গৃহীত কর্মসূচিগুলো বাতিল করে শুধুমাত্র ভার্চুয়ালি কিছু কর্মসূচি পালন করা হয়। এখন ১৭ থেকে ২৬ মার্চ ১০ দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান-সরকারপ্রধানসহ বিশ্বনেতৃবৃন্দের আগমন এবং ভিডিওতে শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করছেন। আজ এই অনুষ্ঠানগুলো করার সুযোগ পেয়েছি জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছিল বলেই। যেখানে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল, আজ আর সেই নাম মুছতে পারবে না কেউ। যেখানে মিথ্যা ঘোষক হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, আজ আন্তর্জাতিকভাবেও আপনারা দেখেন, সেই ঘোষকের আর কোনো ঠিকানা থাকবে না। কারণ, আজ বিশ্বনেতৃবৃন্দ নিজেরাই প্রচার করছেন এবং অনেক জায়গায় রেজুলেশনও হচ্ছে যে, ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্ম এই মাটিতে হয়েছিল বলেই তার মতো একজন বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আমরা পেয়েছিলাম। তিনি ছোটবেলা থেকেই খুব সংবেদনশীল ছিলেন, মানুষের প্রতি দরদি ছিলেন। তার কোনো অহমিকা ছিল না। তিনি সাধারণ মানুষকে সাহায্য করতে পছন্দ করতেন। মানুষের পাশে থাকতেন। দরিদ্র ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে তিনি সহযোগিতা করতেন।’

প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি (বঙ্গবন্ধু) মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কারও কাছে কখনও মাথা নত করেননি— বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

SJ