1. admin@esaharanews.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন

জলমহাল দখলের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে হারিয়ে যায় ২৫০ একর বিল

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ মার্চ, ২০২১
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৭৬৫ বিঘার একটি সরকারি জলমহাল দখল করে চাষাবাদ করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া শুষ্ক মৌসুম এলেই প্রতিবছর হারিয়ে যায় প্রায় ২৫০ একরের বিশাল বিল। দেখে বোঝার উপায় থাকে না সেখানে বিল বলে কিছু আছে। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে বিল ইজারা নেওয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির ব্যাপক লোকসান হচ্ছে।

চলতি মৌসুমেও ‘বড় বিলা-ছোট বিলা’র মধ্যাংশে পানি থাকার কথা ছিলো,কিন্তু সেখানে জোর করে চাষাবাদ করছে অবৈধ দখলকারীরা। বিষয়টি নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পায়নি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের কাজিগ্রামের বড় বিলা-ছোট বিলা জলমহালের ইজারাদার সমবায় সমিতি।

কাজিগ্রাম মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির দাবি, সরকার হয় বিল উদ্ধার করে দেবে অথবা ইজারা বাতিল করবে। তারা জানান, কয়েকদফা অভিযোগ ও তদন্তের নির্দেশ এলেও উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মিজানুর রহমান দখলকারীদের থেকে ঘুষ নিয়ে এ বিষয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন।

বড় বিলা-ছোট বিলা জলমহালের ইজারাদার সংগঠন ‘কাজিগ্রাম মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’র উপদেষ্টা সদস্য শরিফুল ইসলাম আনসারী বলেন, ‘দেশিয় মাছ চাষের উন্নয়ন ও সংরক্ষণের জন্য সমবায় সমিতির অধীনে ৬ বছরের জন্য আবেদন করলে বাংলা ১৪২৬ থেকে ১৪২৯ পর্যন্ত ৪ বছরের জন্য জলমহালটি ইজারা দেয় মন্ত্রণালয়। ইজারা নেওয়ার প্রথম বছরে পানি ও মাছ সংরক্ষণে বিলে বাঁধ দিতে গেলে বাধা দেয় অবৈধ দখলকারীরা।’

গত ২ বছরে পুরো জলমহালের সম্পূর্ণ অংশে মাছ চাষ করতে পারেননি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এতে প্রায় ২ কোটি ২৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে বিলের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অথচ সরকার বাংলা ১৪২৮ সালের জন্য আবারও রাজস্ব আদায়ে চিঠি পাঠিয়েছে। আমাদের থেকে রাজস্ব নিতে হলে বিল বুঝিয়ে দিতে হবে, অথবা ইজারা বাতিল করে জামানতের টাকা ফেরত দিতে হবে।’

কাজিগ্রাম মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন জানান, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সব প্রক্রিয়া মেনেই বড় বিলা-ছোট বিলা জলমহালটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। এরপরেও স্থানীয় প্রশাসন অবৈধ দখলকারীদের থেকে রক্ষা করতে সহযোগিতা করছে না। স্থানীয় নেতা মজনু, মান্নানের নেতৃত্বে এই বিল দখল করে চাষাবাদ করা হচ্ছে। অথচ আমরা বিপুল পরিমাণ অর্থ রাজস্ব দিয়ে সরকারের কাছ থেকে ইজারা নিয়েও মাছ চাষ করতে পারছি না।’

মৎস্যজীবী আব্দুল করিম বলেন, ইজারা নেওয়ার পর গত ২ বছরই অবৈধ দখলকারীদের বিভিন্ন হয়রানির শিকার হয়েছি আমরা। তারা (দখলকারীরা) গায়ের জোরে চাষাবাদ করছে, বিলের পানি নামিয়ে নিচ্ছে। মাছ চাষ করতে দেয় না, এমনকি বর্ষা মৌসুমেও জোর করে মাছ আহরণ করে নিচ্ছে।’

জলমহাল দখলের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে হারিয়ে যায় ২৫০ একর বিল

সরকারি বিলে অবৈধভাবে চাষাবাদের কথা স্বীকার করে স্থানীয় সাগর আলী বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না, ফলে সরকারি জমি পড়ে থাকে। তাই মজনু ভাইয়ের কথায় ও নির্দেশনায় আমরা এই জমিতে ধান চাষাবাদ করি।’ সরকারের থেকে কোনরকম ইজারা বা অনুমোদন নেননি বলেও স্বীকার করেন তিনি।

অভিযুক্ত দখলদার মো. মজনু বলেন, ‘বিলের জমিতে চাষাবাদ করছি এটি অবৈধ; কিন্তু সাধারণ খেটে-খাওয়া কৃষক, যাদের জমিজমা কিছু নাই তাদের সংগঠিত করেই এসব চাষাবাদ করা হয়। যে শতাধিক ব্যক্তি ধান চাষ করেছে, তারা জোরপূর্বক মাছ আহরণের সঙ্গে জড়িত নয়। অন্য গ্রামের লোকজন এবছর বিলের মাছ জোর করে মেরে নিয়ে গেছে।’

গোমস্তাপুর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দখলের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করা হবে।’ দখলদারদের সঙ্গে নিজের যোগসাজশের বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, ‘প্রাকৃতিক উপায়ে দেশি মাছ চাষাবাদ ও সংরক্ষণ করতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে বিলের চারদিকে বাঁধ দিয়ে পানি সংরক্ষণের বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে। জেলার সব বিলের উন্নয়নে অধিক ছোট বিলগুলো ইজারা না দিয়ে উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে। যাতে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা চাষাবাদ করতে ও বর্ষা মৌসুমে সত মৎস্যজীবীরা উন্মুক্তভাবে মাছ আহরণ করতে পারে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

SJ