1. admin@esaharanews.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন

শুভ_জন্মদিনে_বিনম্র_শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৫ মে, ২০২১
  • ৭৫ বার পড়া হয়েছে

ডেক্স রিপোর্ট :
শুভ_জন্মদিনে_বিনম্র_শ্রদ্ধাঞ্জলি।

আমাদের পথ প্রদর্শক, আমাদের আইডল, যিনি নীতি ও আদর্শের প্রতি ছিলেন সর্বদা অটল। অন্যায়ের বিরূদ্ধে সর্বদা প্রতিবাদী মূখ,সেই বলিষ্ট কন্ঠস্বর, আমাদের অহংকার প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের আজ জন্মদিন।

১৯৪৫ সালের ৫ মে আজকের এই দিনে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। উনার পিতার নাম দেবেন্দ্র নাথ সেনগুপ্ত এবং মাতার নাম সুমতিবালা সেনগুপ্ত। স্ত্রী জয়া সেনগুপ্ত ও এক সন্তান সৌমেন সেনগুপ্ত। তিনি ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ এ পরলোক গমন করেন।

ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৭০ স্বাধীনতার আগে একবার ও স্বাধীনতার পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জোয়ারের সময়েও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি থেকে মাত্র ২৫ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন এই রাজনীতিবিদ।

এরপর স্বাধীন দেশের প্রথম সংসদ সহ চার দশকের প্রায় সব সংসদেই নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। একাত্তরে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন ৫ নম্বর সেক্টরের সাব কমান্ডার হিসেবে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৭৩ সালে স্বাধীন দেশের প্রথম সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন ন্যাপ থেকে। নব্বই দশকে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এর আগে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ও একতা পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বাংলাদেশের সংবিধান রচনা কমিটি একমাত্র বিরোধী দলীও সদস্য ছিলেন তিনি, তিনিই একমাত্র ব্যাক্তি ছিলেন যিনি হাতে লেখা সংবিধানে সাক্ষর করেননি। পরবর্তীতে ২০১১ সালে ১৫ তম সংশোধনীতে সংবিধানের ১২ নাম্বার অনুচ্ছেদ কিছুটা সংশোধন হবার পর বলেছিলেন এবার সাক্ষর করা যেতে পারে।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আওয়ামলীগের সাবেক সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ছিলেন। আওয়ামলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য ছিলেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক বর্ণাট্য ব্যক্তিত্ব, (যিনি ১৯৯৬ সালে দিরাই-শাল্লাই সামান্য ভোটে হেরে গেলে,মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, শেখ হাসিনা বলেছিলেন,
আপনি হেরে গেলেন????
আমি পার্লামেন্ট চালাবো কিভাবে?
পরে অবস্য হবিগঞ্জের উপনির্বাচনে জয়ী হন) উপনির্বাচনে জয়ের পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা হন তিনি।

তিনি ২০১২ সালে রেল মন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করে তিনি দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ মানুষের মাঝে বেশি পরিচিত ছিলেন সংসদে উনার চাতুর্যপূর্ণ এবং রসাত্মক বক্তব্যের জন্য।
বঙ্গবন্ধু পর্যন্ত তন্ময় হয়ে উনার বক্তব্য শুনতেন।
রাজনীতিবিদ হিসেবে বিপক্ষের নেতাদেরও সমীহ পেয়েছেন তিনি।
তিনিই কিন্তু বলেছিলেন
“বাঘে ধরলে বাঘে ছাড়ে, কিন্তু শেখ হাসিনা ধরলে ছাড়ে না”

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এরপর আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে। জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় হলগুলোর নাটকের প্রতিযোগিতায় অনেক ভাল নাটকে তিনি অভিনয় করেছিলেন একাধিকবার। ভাল নাট্য অভিনেতা ছিলেন।
তিনি জগন্নাথ হলের ভিপি প্রার্থীও ছিলেন।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় সবসময়ই বড় ভূমিকা রেখেছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। দেশের প্রতিটা সংকটেই তিনি অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে তিনি এক নম্বর ছিলেন বলে অনেকে মনে করেন।

সংসদের কবি রাজনীতির রবি শ্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের আজ এই জন্মদিনে রইল বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

SJ