ঢাকারবিবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১১:০৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু কমাতে নতুন প্রকল্প

স্টাফ রিপোর্টার
মার্চ ৯, ২০২২ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
পঠিত: 153 বার
Link Copied!

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির অধীনে ২৭১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ‘ইনট্রিগ্রেটেড কমিউনিটি বেইজড সেন্টার ফর চাইল্ড কেয়ার, প্রটেকশন অ্যান্ড সুইম-সেইফ ফ্যাসিলিটিজ’ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু রোধে এই প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন পানিতে ডুবে মারা যায়, যার মধ্যে ৪০ জন শিশু। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ সমীক্ষা অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম (০ থেকে ৫৯ মাস) বয়সের শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া। বিডিএইচএস (বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে) ২০১৭-১৮’র তথ্য অনুযায়ী, এক থেকে চার বছর বয়সের শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া।

কিন্তু এই মৃত্যু স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় কম খরচে প্রতিরোধ যোগ্য, যা গবেষণায় প্রমাণ করেছে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)।

২০০৫ সাল থেকে সিআইপিআরবি পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গবেষণায় দেখা গেছে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সীদের জন্য শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র ‘আঁচল’ পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু রোধ করতে পারে ৮২ শতাংশ।

অন্যদিকে ছয় থেকে দশ বছর বয়সী শিশুদের সাঁতার শিখিয়ে তা প্রতিরোধ করা যায় ৯৬ শতাংশ। এর পাশাপাশি কোনো শিশু পানিতে ডুবে গেলে অন্য শিশুরা কীভাবে তাদের উদ্ধার করবে সেই পদ্ধতিও হাতে কলমে শেখানো হয়।

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে এসব উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা।

এসব ব্যবস্থাপনাকেই ইনট্রিগ্রেটেড কমিউনিটি বেইজড সেন্টার ফর চাইল্ড কেয়ার, প্রটেকশন অ্যান্ড সুইম-সেইফ ফ্যাসিলিটিজ প্রকল্প হিসাবে অনুমোদন দিয়ে জাতীয়করণ করা হয়েছে সভায়।

এই প্রকল্পের মোট বরাদ্দের ২৬২ কোটি ১৭ লাখ টাকা দেবে সরকার আর বাকি ৫৪ কোটি ২১ লাখ টাকা দিবে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সাহায্য সংস্থা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইন্সটিটিউশন, আরএনএলআই এবং যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সাহায্য সংস্থা ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রোপিজ।

তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের বাস্তবায়নের সময় দেখানো হয়েছে জানুয়ারি ২০২২ থেকে ডিসেম্বর ২০২৪। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনায়লের অধীনে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন করবে শিশু একাডেমি। দেশব্যাপী ১৬ জেলার ৪৫টি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে এই প্রকল্প।

 


শিশুদের সাঁতার শেখান হামিদা আক্তার


 

২০১৬ সাল থেকে বরিশাল বিভাগের দুই জেলা পটুয়াখালি ও বরগুনার তিন উপজেলায় অনুমোদিত প্রকল্পের পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন করে আসছে সিআইপিআরবি। প্রকল্পের নাম ‘ভাসা’-মানে পানিতে ভেসে থাকা।

এর আগে ২০২১ সালের ২৮ এপ্রিল জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস ঘোষণার দাবি করে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড। প্রস্তাবনাটি উত্থাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা। এতে সমর্থন দিয়েছে ৭৯টি সদস্য রাষ্ট্র।

একই অধিবেশনে ২৫ জুলাই ‘বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস’ ঘোষণা করা হয়। একই সাথে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ১০টি নির্দেশনা দেয় জাতিসংঘ। সেই নির্দেশনা অনুসারে বাংলাদেশই প্রথম রাষ্ট্র হিসাবে ‘ইনট্রিগ্রেটেড কমিউনিটি বেইজড সেন্টার ফর চাইল্ড কেয়ার, প্রটেকশন অ্যান্ড সুইম-সেইফ ফ্যাসিলিটিজ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিল।


পানিতে ডুবে মৃত্যু বেড়েছে ৬৭%

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু ‘শূন্যে’ নামিয়ে আনার ঘোষণা

বাংলাদেশের প্রস্তাবে ২৫ জুলাই হল ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ’ দিবস


 

পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করছে সিআইপিআরবি। প্রকল্প অনুমোদন করার জন্য একনেক সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য সদস্য, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয় সংশ্লিষ্ট এবং রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোর্ড ইন্সটিটিউশন, ইউকে, ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজ, ইউএসএ সহ সকল সহযোগী সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান সিআইপিআরবি’র ডেপুটি ডাইরেক্টর এবং ইন্টারন্যাশনাল ড্রাউনিং প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ ডিভিশনের ডাইরেক্টর আমিনুর রহমান।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে এই উদ্যোগ একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশই প্রথম দেশ যারা জাতীয় ভাবে প্রকল্প অনুমোদন করলো।

“যা অবশ্যই অন্যান্য দেশের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমাদের একযুগেরও বেশি সময়ের পরিশ্রম আলোর মুখ দেখেছে। এখন প্রকল্পের পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করতে হবে, তাহলেই আমরা পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার কমাতে পারবো।”

অনুমোদিত প্রস্তাবনা অনুযায়ী দেশজুড়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগী সংস্থাগুলোকে কারিগরি সহায়তা দিবে সিআইপিআরবি। পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে উদ্ভাবিত দুই উদ্যোগ আঁচল এবং সুইমসেইফ দেশব্যাপি ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হলে, পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করে সিআইপিআরবি।