ঢাকাবুধবার, ১০ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:৫৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইন্টারনেট, ফেসবুক এর যুগে হারিয়ে যাচ্ছে রেডিও

admin
আগস্ট ১, ২০২২ ৫:২৫ অপরাহ্ণ
পঠিত: 54 বার
Link Copied!

সনতচক্রবর্ত্তী: ইন্টারনেট, ফেসবুক এর কারণে হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের বিনোদনের মাধ্যম রেডিও।  উনবিংশ শতাব্দীতে রেডিও ছিলো একমাত্র জনপ্রিয় (সংবাদ)বিনোদন মাধ্যম।
রেডিও ছিলো একটা সময় শহর কিংবা গ্রামে খুবই জনপ্রিয়। আধুনিকতার ছোঁয়া হলেও বর্তমানে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে যন্ত্রটি। অনেকের বাসায় রেডিও থাকলেও এখন আর কেউ যন্ত্রটি দিয়ে গান কিংবা অনুষ্ঠান শোনেন না। আগে মানুষ রেডিওর মাধ্যমে বিনোদন, সংবাদ সবকিছুই জানতো।
টেলিভিশন আবিস্কারের পর আস্তে আস্তে শহর এলাকায় রেডিওর ব্যবহার কমতে থাকলেও গ্রামে তার ব্যবহার কমেনি। কিন্তু, আজ সময়ের ব্যাপ্তিকালে রেডিও একবারেই বিলুপ্ত হয়েছে।
রেডিওতে শুধু শোনার ব্যবস্থা থাকার কারণে তার গুরুত্বও বেশ ছিলো। এক কথায় বলতে গেলে তথ্য জানার জন্যে সকলেই কান পেতে থাকতো। গ্রামের ঘরে ঘরে ছিলো রেডিও।
এছাড়াও সরকারি উন্নয়ন, পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, সংস্কৃতি, আবহাওয়াসহ চলমান বিভিন্ন তথ্যবহুল সংবাদ জানার ও বিনোদনমূলক বিভিন্ন গান শোনার একমাত্র মাধ্যমই ছিলো রেডিও। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পট-পরিবর্তনে তথ্য সরবরাহের কাজ করেছে রেডিও।
৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬৯ -র গণঅভ্যুত্থান ও ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার মানুষের খবরের একমাত্র বাহন ছিলো এই রেডিও। মুক্তিযুদ্ধের ডাক, মুক্তিযুদ্ধের প্রতিদিনের খবর, যোদ্ধাদের সাহস, সন্মান দেখিয়ে দেশাত্ববোধক গান, স্বাধীনতার ঘোষণা এই সকল কিছুই দেশবাসীর মাঝে পৌঁছে দেয়ার একমাত্র বাহন, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রথম এই রেডিওতেই দেয়া হয়েছিলো। তৎকালীন সময়ের মানুষ গুলোই রেডিও এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারতো।
আশিউর্দ্ধ বয়সী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার থেকে সরাসরি সম্প্রচারকৃত খবর শোনার একমাত্র মাধ্যমেই ছিল রেডিও। যে খবর শোনে লক্ষ বাঙ্গালি মুক্তিযুদ্ধে যোগদানে উজ্জ্বিবিত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন,তৎকালিন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক আঠারো মিনিটের ভাষণ সরাসরি রেডিওতে শুনে লাখো বাঙ্গালি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল।
মুক্তিযোদ্ধা জহুরুর হক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে রেডিওর অবদান বলে শেষ করা যাবে না। রেডিও শুনে শুনেই মূলত আমরা যুদ্ধ করতাম। কোথায় কি হচ্ছে তা জানার একমাত্র মাধ্যম ছিল রেডিও।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু তথ্য জানার বিষয়ই না। তখন রেডিওতে দেশাত্মবোধক যে গানগুলো দেওয়া হতো সেগুলো শুনতে কেমন যেন দেশের জন্য ভালোবাসা আরও বেড়ে যেত। গান থেকে আমরা যুদ্ধের অনুপ্রেরণা পেতাম