ঢাকামঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৩:৩৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গোলক বৃন্দাবন

admin
অক্টোবর ১৯, ২০২২ ৮:১০ অপরাহ্ণ
পঠিত: 42 বার
Link Copied!

গোলক বৃন্দাবন

পতি ও পত্নী বৈকুন্ঠলোক লাভ…

শাস্ত্রে বিবাহিত স্ত্রীর কর্তব্য প্রধানত: চারটি । এক - পতির সেবা করা । দুই - সর্বদা পতির প্রতি অনুকূল থাকা । তিন - পতির আত্মীয় - স্বজন এবং বন্ধু বান্ধবদের প্রতিও সমানভাবে অনুকূল থাকা । চার - পতির জন্য ব্রত পালন করা ।

এই চারটি পতিব্রতা স্ত্রীর লক্ষণ। এগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ গৃহস্থ জীবনের জন্য স্ত্রীর পক্ষে পতির ব্রত পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । পতির ব্রতের সঙ্গে যদি স্ত্রীর মতভেদ হয়, তা হলে পারিবারিক জীবনে অশান্তির সৃষ্টি হবে। তাই পতিব্রতা স্ত্রীর ধর্ম হচ্ছে সর্বদা তাঁর পতির প্রতি অনুকূল থাকা ।

এই প্রসঙ্গে চাণক্য পণ্ডিত একটি অত্যন্ত মূল্যবান উপদেশ দিয়েছেন, “দাম্পত্যোঃ কলহাে নাস্তি তত্র শ্রীঃ স্বয়মাগতাঃ” অর্থাৎ যখন পতি ও পত্নীর মধ্যে কলহ হয় না, তখন লক্ষ্মীদেবী স্বয়ং সেই গৃহে আগমন করেন ।

কিন্তু স্বামী যদি পাপী ও পতিত হয় ?

যিনি ভগবানের ভক্ত, তিনি নিস্পাপ। কিন্তু যে ভগবানের ভক্ত নয়, সে অত্যন্ত পাপী এবং পতিত। তাই ভাগবতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সাধ্বী স্ত্রী পতিত পতির সঙ্গ করা উচিত নয় ।

কলুষিত বা পতিত পতি কারা ?

(১) পতিত পতি হচ্ছে সে, যে এই চারটি পাপকর্মে আসক্ত — যথা, অবৈধ স্ত্রীসঙ্গ, আমিষ আহার, দূতক্রীড়া এবং মাদক দ্রব্য সেবন ।

(২) আবার কেউ যদি ভগবানের শরণাগত কোনদিনও না হয়, তা হলে তাকেও কলুষিত বলে মনে করা হয় ।

তাই পতিব্রতা স্ত্রীকে উপদেশ দেওয়া হয়েছে, সেই প্রকার পতির সেবা না করতে। এমন নয় যে সাধ্বী স্ত্রীকে নরাধম পতির দাসী হতে হবে ।

যদিও স্ত্রীর কর্তব্য পুরুষ থেকে পৃথক, তবুও পতিব্রতা স্ত্রীর পতিত পতির সেবা করা উচিত নয়। যদি পতি পতিত হয়, তা হলে স্ত্রীকে তার সঙ্গ পরিত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।

পতির সঙ্গ পরিত্যাগ করার অর্থ কিন্তু এই নয় যে, পত্নী অন্য পুরুষের সঙ্গ করে বেশ্যাবৃত্তিতে প্রবৃত্ত হবে ।

সাধ্বী স্ত্রীর যদি দুর্ভাগ্যবশত পতিত পতির সঙ্গে বিবাহ হয়, তা হলে তাঁর কর্তব্য তার থেকে আলাদা হয়ে থাকা ।

তেমনই, পত্নী যদি শাস্ত্রের বর্ণনানুসারে সাধ্বী না হয়, তা হলে পতিও তার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে ।

এই বিষয়ে ভাগবতের সিদ্ধান্ত এই যে, পতির কর্তব্য শুদ্ধ বৈষ্ণব হওয়া এবং স্ত্রীর কর্তব্য শাস্ত্রের বর্ণনানুসারে সমস্ত লক্ষণযুক্ত হয়ে সাধ্বী স্ত্রী হওয়া ।

তা হলে উভয়েই সুখী হয়ে কৃষ্ণের সেবা করে পারমার্থিক জীবনের উন্নতি সাধন করতে পারবে ।

বৈকুণ্ঠলােকে ভগবান শ্রীবিষ্ণু শত – সহস্র লক্ষ্মীদেবীর দ্বারা সেবিত হন এবং গােলােক বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ শত – সহস্র গােপীদের দ্বারা নিরন্তর সেবিত হন, যাঁরা হচ্ছেন লক্ষ্মীদেবী ।

নারীর কর্তব্য লক্ষ্মীদেবীর মতাে নিষ্ঠা সহকারে পতির সেবা করা এবং পুরুষের কর্তব্য ভগবানের আদর্শ সেবক হওয়া ।

তা হলে পতি এবং পত্নী উভয়েই পরস্পরের প্রতি এত নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত হবেন যে, তাঁরা একত্রে ভগবদ্ভক্তি সম্পাদন করে সেই অমৃতন্যায় ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে পারবে, এই সম্বন্ধে কোন সন্দেহ নেই ।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে…

রাধে রাধে