ঢাকামঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যদিও ৫ দেবতার ধ্যান মন্ত্র

admin
নভেম্বর ১০, ২০২২ ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
পঠিত: 35 বার
Link Copied!

যদিও ৫ দেবতার ধ্যান মন্ত্র সাথে প্রণাম দেয়া হয়েছে পৃথক পৃথক ভাবে ,তবু আবির কুন্ডু মহাশয়ের বিশেষ অনুরোধ এ একসাথে দেয়া হল ও তার সাথেই ছবিতে দেবী পঞ্চ আয়তন দেয়া হল ।

ভগবান গণেশের ধ্যান –

“ওঁ খর্বং স্থূলতনুং গজেন্দ্রবদনং
লম্বোদরং সুন্দরং
প্রস্যন্দন্মদ্গন্ধলুব্ধমধুপব্যালোলগণ্ডস্থলম্।
দন্তাঘাতবিদারিতারিরুধিরৈঃ
সিন্দূরশোভাকরং
বন্দে শৈলসুতাসুতং গণপতিং
সিদ্ধিপ্রদং কামদম্।।”

অর্থাৎ – যিনি খর্বাকৃতি,
স্থূলশরীর, লম্বোদর, গজেন্দ্রবদন
অথচ সুন্দর; বদন হইতে নিঃসৃত
মদগন্ধে প্রলুব্ধ ভ্রমরসমূহের
দ্বারা যাঁহার গণ্ডস্থল
ব্যাকুলিত; যিনি দন্তাঘাতে
শত্রুর দেহ বিদারিত করিয়া
তাহার দন্ত দ্বারা নিজ
দেহে সিন্দূরের শোভা ধারণ
করিয়াছেন; সেই পার্বতীপুত্র
সিদ্ধিদাতা ও কামদাতা
গণপতির ধ্যান করি।

গণেশের প্রণামমন্ত্র –
একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদরং
গজাননং।
বিঘ্ননাশকরং দেবং হেরম্বং
প্রণমাম্যহম্।।

অর্থাৎ – যিনি একদন্ত,
মহাকায়, লম্বোদর, গজানন এবং
বিঘ্ননাশকারী সেই
হেরম্বদেবকে আমি প্রণাম করি।

গণেশের প্রার্থনা মন্ত্র –
দেবেন্দ্রমৌলিমন্দারমকরন্দকণারুণাঃ।
বিঘ্নং হরন্তু হেরম্বচরণাম্বুজ
রেণবঃ।।
— অর্থাৎ —– দেবরাজ
ইন্দ্রের মস্তকে বিরাজিত
মন্দারপুষ্পের পরাগসমূহের
দ্বারা রক্তিম হেরম্বের
পাদপদ্মের রেণুসমূহ আমার
বিঘ্নহরণ করুক।

ভগবান সূর্যর ধ্যান

ওঁ রক্তাম্বুজাসনমশেষগুণৈসিন্ধুং, ভানুং সমস্তজগতামধিপং ভজামি।
পদ্মদ্বয়াভয়বরান্ দধতং করাব্জৈ- র্মাণিক্যমৌলিমরুণাঙ্গরুচিং ত্রিনেত্রম্।।

অর্থাৎ – রক্তপদ্মাসনে উপবিষ্ট অশেষ গুনের সাগর ,ভানু সমস্ত জগতের অধিপতি ,দুই হস্তে পদ্ম ও অপর দুই হস্তে বরাভয় মুদ্রাধারণকারী ,মাণিক্য শোভা পাচ্ছে মস্তকে যার ও যিনি ত্রিনেত্র ।

সূর্যের প্রণাম

ওঁ জবাকুসুমসঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম।
ধান্তাারীং সর্বপাপঘ্নং প্রণতোহস্মি দিবাকরম্ ।।

অর্থাৎ – আপনার জবা কুসুমসম রক্ত বর্ণ গাত্র ,কাশ্যপ মহর্ষি পুত্র আপনি ,আপনি আমার সর্ব পাপ হরণ করুন ,আপনাকে প্রণাম হে দিবাকর ।

ভগবান বিষ্ণুর ধ্যান-

ওঁ উদ্যৎকোটিদিবাকরাভমনিশং শঙ্খং গদাং পঙ্কজং চক্রং
বিভ্রতমিন্দিরা বসুমতী সংশোভিপার্শ্বদ্বয়ম্।
কোটিরাঙ্গদহারকুন্ডলধরং পীতাম্বরং কৌস্তভোদ্দীপ্তং
বিশ্বধরং স্ববক্ষসি লসচ্ছ্রীবৎসচিহ্নং ভজে।

অর্থাৎ – উদিত কোটি সূর্যসম গাত্রবর্ণ ,যার করে শঙ্খ গদা পদ্ম ও চক্র বিরাজ করছে ,ইন্দিরা(শ্রী লক্ষী ) ও বসুমতি দুই পার্শে সুশোভিত ,যিনি হার ,কুন্ডল তথা পীতাম্বর ধারণ করে আছেন,বিশ্বকে ধারণকারী ,বক্ষদেশে যার কৌস্তভমনি ও মহর্ষি ভৃগুর পদ চিহ্ন ।

ভগবান বিষ্ণুর প্রণাম

ওঁ নমো ব্রাহ্মণ্যদেবায় গো- ব্রাহ্মণ্যহিতায় চ।
জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমো নমঃ।।
পাপোহহং পাপকর্মাহং পাপাত্মা পাপসম্ভবঃ।
ত্রাহি মাং পুন্ডরীকাক্ষং সর্বপাপহরো হরি ।।

অর্থাৎ – প্রণাম ব্রহ্মদেব গো ব্রাম্হন হিতকরী ,জগৎধারণকারী কৃষ্ণ গোবিন্দ প্রণাম ,আমি পাপী পাপকর্মকারী পাপাত্মা কেবল পাপসম্ভব আমার দ্বারা
ত্রাণ করুন পুণ্ডরীকাক্ষ ,সর্ব পাপ হরণ করুন হরি ।

জগৎ পালন কর্তা শ্রীহরি বিষ্ণু দেবের চক্রের নাম সুদর্শন ,শঙ্খের নাম পাঞ্চজন্য ,গদার নাম কামদৌকি ও মনির নাম কৌস্তভ ।

ভগবান শিবের ধ্যান-

ওঁ ধ্যায়েন্নিত্যং মহেশং রজতগিরিনিভং চারুচন্দ্রাবতসং ।
রত্নাকল্লোজ্বলাঙ্গং পরশুমৃগবরাভীতিহস্তং প্রসন্নম্ ।।
পদ্মাসীনং সমস্তাৎ স্ততমমরগণৈ – র্ব্যাঘ্রকৃত্তিং বসানং ।
বিশ্বাদ্যং বিশ্ববীজং নিখিলভয়হরং পঞ্চাবক্ত্রং ত্রিনেত্রম্ ।।

অর্থ- রজত গিরির ন্যায় শুভ্রোজ্জল কান্তি শিবকে ধ্যান করি । মনোহর চন্দ্রকলা তাঁর ললাট ভূষণ , রত্নময় ভূষনে তাঁর দেহ সমুজ্জ্বল ।তদীয় হস্ত দ্বয়ে পরশু ও মৃগ মুদ্রা,বর ও অভয়মুদ্রা । তিনি ব্যাঘ্র চর্ম পরিধান করে পদ্মাসনে প্রফুল্ল ভাবে সমাসীন । দেব গন চতুর্দিক হতে তাঁর স্তব স্তুতি করছেন । তিনিই বিশ্বের আদি ও মূল কারন এবং নিখিল ভয়নাশক। তিনি পঞ্চ আনন বিশিষ্ট এবং তাঁর প্রতি আননে তিন তিনটি নয়ন ।

শিব প্রণাম মন্ত্র
নমঃ শিবায় শান্তায় কারুণাত্রায়
হেতবে নিবেদিতামি চাত্মানং ত্বং গত্বিং পরমেশ্বর॥

সরলার্থ :
তিন কারণের (সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশের)
হেতু শান্ত শিবকে প্রণাম ।
হে পরমেশ্বর তুমিই পরমগতি ।
তোমার কাছে নিজেকে সমর্পণ করি ।

ভগবতী জয়দুর্গার ধ্যান –

ওঁ কালাভ্রাভাং কটাক্ষৈররিকুলভয়দাং মৌলীবন্ধেন্দুরেখাম্ ।
শঙ্খং চক্রং কৃপাণং ত্রিশিখমপি করৈরুদ্বহন্তীং ত্রিনেত্রাম্ ।
সিংহাস্কন্ধাধিরুঢ়াং ত্রিভুবন – মখিলং তেজসা পুরয়ন্তীম্ ।
ধ্যায়েদ্ দুর্গাং জয়াখ্যাং ত্রিদশপরিবৃতাং সেবিতাং সিদ্ধিকামৈঃ ।।

অর্থ- কালাভ্র আভাং ( এর অর্থ দুই প্রকার হয়, একটি স্বর্ণ বর্ণা অপরটি ঘোর মেঘের ন্যায় ) , কটাক্ষে শত্রুকূলত্রাসিণী , কপালে চন্দ্রকলা শোভিতা, চারি হস্তে শঙ্খ, চক্র, খড়্গ ও ত্রিশূল ধারিণী, ত্রিনয়না, সিংহোপরি সংস্থিতা , সমগ্র ত্রিভুবন স্বীয় তেজে পূর্ণকারিণী , দেবগণ- পরিবৃতা , সিদ্ধসঙ্ঘ সেবিতা জয়াখ্যা দুর্গার ধ্যন করি ।

দেবীমায়ের প্রণাম মন্ত্র –
ওঁ সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বাথসাধিকে । শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমোহস্তু তে|

অর্থ- ॐ ,আপনি সর্বমঙ্গলস্বরূপা,সর্বাভীষ্টসাধিকা,একমাত্র স্মরণযোগ্য ,ত্রিভুবন জননী বা ত্রিনয়না (সূর্যচন্দ্রাগ্নিলোচনা ) ও গৌরবর্ণা | হে নারায়ণী ,আপনাকে প্রণাম করি