ঢাকামঙ্গলবার, ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৪:০৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রকৃত বৈষ্ণব তিনিই- যিনি কৃষ্ণ কৃপাসিন্ধু

ESAHARA NEWS
ডিসেম্বর ৩১, ২০২২ ১২:১১ অপরাহ্ণ
পঠিত: 53 বার
Link Copied!

প্রকৃত বৈষ্ণব

বৈষ্ণব তিনিই- যিনি কৃষ্ণ কৃপাসিন্ধু।।

বৈষ্ণব এক কল্পবৃক্ষের মতো, যে সকলকে ছায়া প্রদান করেন। হিন্দু সমাজের একমাত্র বৈষ্ণবই অধঃপতিত জীবদের উদ্ধারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

গুরুরূপে তাঁকে শিষ্যের সমস্ত পাপ হরণ করতে হয়। তাই অধিক শিষ্য গ্রহণ করা খুব কঠিন কাজ, যদি না সেই পাপ খণ্ডন করা যায়।

অদ্ভুত ভাবে এই কথা বাইবেলেও রয়েছে-যীশুখ্রিষ্টও মানুষের সমস্ত পাপ গ্রহন করে, এমনকি ক্রুশবিদ্ধ হয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। এটি গুরুদেবের এক বিশেষ ভোগকর্ম।

কিন্তু সেইসব খ্রিষ্টানদের মতো বর্তমান শিষ্যরা, এর সুযোগ নিয়ে এক নতুন নিয়ম বানিয়ে ফেলেছে- যে আমরা সব রকম অপকর্ম করেই যাব, আর যিশুখ্রিষ্ট অর্থাৎ নিজ গুরুদেব সেজন্য কষ্টভোগ করবেন।

কত বড় মুর্খ এরা! কত বড় অমানুষ তা ভাবুন একবার!

“আপনি আমাদের পাপকর্মের ফল গ্রহণ করেই যান, যেন আমরা অপকর্ম চালিয়ে যেতেই পারি!”

প্রতিটি শিষ্যকে লজ্জিত হওয়া উচিৎ-আমার গুরুদেব আমার জন্য এত কষ্ট পাচ্ছেন, তবুও আমি তো পাপকর্ম থেকে বিরত হচ্ছি না! সুতরাং আজ থেকে বিন্দুমাত্র পাপকর্ম করব না।

গুরদেব নিজে কিন্তু পাপশূন্য-তিনি যে রোগাক্রান্ত হয়ে কষ্ট পাচ্ছেন, অবশ্যই তা আমাদের পাপকর্মের কারনে।

শিষ্যের সচেতন হওয়া উচিৎ-যে গুরুদেব আমাকে মুক্তি প্রাপ্ত করানোর উদ্দেশ্যে, দীক্ষা প্রদান দ্বারা যে গুরুভার গ্রহন করেছেন, আমি তার অমার্যাদা করছি।

কারন আমি দীক্ষা ব্যাপারটিকেই অতি সহজভাবে নিয়েছি। তিনি সমস্ত পাপ গ্রহণ করে কষ্টভোগ করছেন, তবুও তা দেখেও আমরা নিজেদের মতোই চলছি। আমরা কি শিষ্য হওয়ার যোগ্য ?

প্রভু শ্রীকৃষ্ণ তো শ্রীকৃষ্ণই- তিনি নিমেষে সব পাপ হরণ করেও ‘অপাপবিদ্ধ’- অর্থাৎ কোনও পাপ তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের প্রতিনিধি গুরুদেব, অত্যন্ত ক্ষুদ্র এক জীব- বৃহৎ অগ্নি ও ক্ষুদ্র অগ্নি।

কোনও বড় আগুনে তুমি যাই দাও না কেন, নিমেষে সব ভস্মীভুত হয়ে যায়। কিন্তু ছোট আগুনে যদি বড় জিনিষ দাও, আগুনটি নিভেও যেতে পারে। তাই শিষ্যের পাপ হরণ করতে গিয়ে, গুরুদেবকে রোগাক্রান্ত হয়ে কষ্ট পেতে হয়।

আমরা কয়েকটা গ্রন্থ অধ্যয়ণ করে, মাত্র কিছু বছর ভক্তিপথে থেকে, নিজেকে এত বড় ভক্ত মনে করে ফেলি- মুখে তো বলি- “আমি কৃষ্ণের দাসেরও দাস”

আর ভিতরে অহং বোধ!

নিজেকে বড় ভাবার গর্বে সবচেয়ে বড় পাপ হয়- অজান্তে ভক্ত ও বৈষ্ণব অপরাধ। সেই দায়ভারেরও অংশরূপে বহন করতে হয় তোমার গুরুদেবকে!

ব্যাপক প্রাচারের উদ্দেশ্যে, গুরুদেবকে প্রচুর মানুষকে শিষ্যত্বে বরণ করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। সেখানেই কি গুরুর ভুল? যে আপনি পরবর্তীতে ভুল কর্ম করে, তাঁকে কষ্ট প্রাপ্ত করাবেন?

সচেতন ও উপযুক্ত শিষ্য হউন- গুরুদেবের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব কিন্তু আপনারও! জয় নিতাই গৌর হরিবোল।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।।

জয় শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু