ঢাকামঙ্গলবার, ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:৪৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হিন্দুধর্ম কি গ্রহণ করা যায়

ESAHARA NEWS
জানুয়ারি ১, ২০২৩ ১২:২৪ অপরাহ্ণ
পঠিত: 19 বার
Link Copied!

ধর্ম গ্রহণ

হিন্দুধর্ম কি গ্রহণ করা যায়, গ্রহণ করা গেলে গ্রহণের পদ্ধতি কি ?

উত্তরঃ পৃথিবীর সব থেকে প্রাচীন ধর্ম সনাতন ধর্ম। সকল ধর্ম, মত, পথ ও উপাসনা পদ্ধতি এসব কিছুরই উৎসমুখ হচ্ছে এই সনাতন হিন্দু ধর্ম।

যেহেতু এক সময় পুরো পৃথিবীতে হিন্দু ধর্ম ছাড়া

অন্য ধর্মই ছিল না তাই সেই সময়ে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী কে

হিন্দুধর্মে দীক্ষিত করার কোন প্রথাও ছিল না, কেননা সে সময় ভিন্ন ধর্ম বলতে কিছু ছিলই না।

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে শুধু ভিন্ন ধর্মের উদ্ভবই ঘটেনি এমনকি হিন্দু ধর্ম কে সংহার করতে বহু ধর্মেরই উদ্ভব ঘটেছে আর এদের দ্বারা হিন্দুরা বিপথে চালিতও কম হয়নি।

মহা মানবেরা যেমন সমাজ সংস্কারের জন্য কাজ করেন তেমনই সময়ের প্রয়োজনে কিছু পদ্ধতিও সম্প্রদায় ও সমাজের জন্য নির্দেশ করেন।

খ্রিষ্টীয় চতুর্থ / পঞ্চম শতাব্দীর দিকে তেমনই একজন ঋষির আবির্ভাব ঘটে। আর ভিন্ন ধর্মে চলে যাওয়া হিন্দুদের নিজ ধর্মে ফিরিয়ে আনতে এবং ভিন্ন ধর্মের মানুষকে হিন্দুধর্ম গ্রহণের পদ্ধতি লিপিবদ্ধ করেন এই মহান ঋষি দেবল। তাঁর রচিত ‘দেবল স্মৃতি’ তে হিন্দু ধর্ম গ্রহণের পূর্ণাঙ্গ বিধান দেওয়া আছে।

ভারতীয় আর্য সমাজ, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ, স্বামী নারায়ণ সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে কনভার্ট হওয়া হিন্দুদের নিজ ধর্মে ফিরিয়ে আনা ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের হিন্দু ধর্ম গ্রহণের ‘শুদ্ধি যজ্ঞ’ নামক আনুষ্ঠানিকতাটি মূলত এই দেবল স্মৃতির অনুসরণ।

চতুর্থ / পঞ্চম শতাব্দীর দিকে ঋষি দেবলের ডাকে

সমসাময়িক ভারতে ঋষিদের নিয়ে সিন্ধু তীরবর্তী ( বর্তমান পাকিস্তান অংশে ) এক সম্মেলন হয়। এই সম্মেলনে ঋষি দেবল ও অন্যান্য ঋষিগণ হিন্দুদের রক্ষা ও হিন্দুধর্ম প্রসারের লক্ষ্যে কিছু সিদ্ধান্তে উপনীত হন।

এই সিদ্ধান্তের ফলাফল হচ্ছে ‘দেবল স্মৃতি’ নামক গ্রন্থ।

ভারতের দেরাদুন আর্য সমাজের গ্রন্থাগারে আজও

‘দেবল স্মৃতি’ সংরক্ষিত আছে।

এই গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ যত শীঘ্র হবে ততই আমাদের জন্য মঙ্গল। এছাড়াও বেদের সেই বিখ্যাত মন্ত্রও আমাদের নির্দেশ করে যে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করা যায়।

‘হে মনুষ্যগণ তোমরা ঈশ্বরের মহিমাকে বৃদ্ধি কর, সমগ্র

বিশ্বকে আর্যধর্মে দীক্ষিত কর’ ।

ঋগ্বেদ, ৯/৬৩/৫

বিধর্মী ও আমাদের হিন্দুদের মধ্যেও অনেক মানুষ আছে, যারা এই তত্ত্ব দিয়ে থাকেন এই যে, হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করা যায় না।

আর সে কারণেই অনেকে প্রেম বা ধর্মবোধ যে কারণেই হোক না কেন হিন্দুধর্ম গ্রহণ করতে চাইলে গ্রহণ করার পথ খুঁজে পায় না।

এই মিথ্যা আইনের চর্চা বা ধারণা এক অর্থে প্রচ্ছন্ন সাম্প্রদায়িকতার চর্চা। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয় নচেৎ ধ্বংস অনিবার্য।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।।

হে মধুসূদন

(ফেসবুক কপি পেস্ট)