ঢাকামঙ্গলবার, ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:৫৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জয় চক্রাধারী শ্রীকৃষ্ণ

ESAHARA NEWS
জানুয়ারি ৫, ২০২৩ ১:৩০ অপরাহ্ণ
পঠিত: 54 বার
Link Copied!

জয় চক্রাধারী শ্রীকৃষ্ণ

মূর্খকে উপদেশ দিলে সে ক্রুদ্ধই হয়! কেননা জাগতিক মায়ার দ্বারা সর্বদা আচ্ছন্ন থাকে তার শরীর ও মন। কেবলই শুধু আমার আমার !!

কখনও যদি কোনও কৃষ্ণতত্ত্ব জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি, যদি কোনও ধনী ব্যক্তি কে গিয়ে বলে- আপনার যে সম্পদ তার প্রকৃত মালিক আপনি নন, পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন এই সবকিছুর মালিক।

সুতরাং আপনার কাছে যা টাকা বা অর্থ সম্পদ রয়েছে, তা কৃষ্ণসেবায় ব্যবহার করুন। এতে ধনী লোকটি অবশ্যই অতি ক্রুদ্ধ হবেন।

উপদেশো হি মুর্খানাং প্রকোপায় না শান্তয়ে।।

অনুবাদ : তুমি যদি মূর্খকে উপদেশ দাও, তাহলে সে ক্রুদ্ধ হবেই।।

তবুও সর্ব সময় কৃষ্ণতত্ত্ব প্রচারকরা এইসব ধনী ব্যক্তিদের মনোঃক্ষুন্ন করার বিশাল ঝুঁকি নিয়ে চলেছে।

বহুক্ষেত্রে সেইসব ধনী ব্যক্তিদের নজরে এইসব প্রচারকরা হচ্ছে একদল মুর্খ বা বোকা ছাড়া আর কিছুই নয়।

তাই তাদের কাছে ভিক্ষুকের বেশে যেতে হয়। এবং তাদের গিয়ে বলতে হয়, বাবুমশাই আপনি খুব ভাল মানুষ।

আমি একজন সন্ন্যাসী ভিক্ষুক। আমি একটি মন্দির বানাতে চাই। আপনি কি দয়া করে কিছু টাকা দিতে পারবেন ?

তখন সে মনে করে- একজন ভিখারী এসেছে, তাকে কিছু টাকা দেওয়া যেতেই পারে, যাক সে যখন এত বিনয়ের সহিত বলছে তাকে কিছু টাকা দিয়েই দেই।

কিন্তু তাকে যদি বলা হতো, বাবুমশাই আপনার কাছে কোটি কোটি টাকা আছে, সেগুলি আসলে পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের টাকা। সেগুলি আমাকে দিন, কারণ আপনি এবং আমি সবাই শ্রীকৃষ্ণের দাস।

তাহলে সে হয়তো ক্রুদ্ধ হয়ে একটি পয়সাও দেবে না। তাই ভিক্ষুকরূপে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়।

তবে ভক্ত, অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণের সেবক কখনও ভিক্ষুক হতে পারে না। কারণ তার পূর্ণ জ্ঞান আছে এই যে, শ্রীকৃষ্ণ তার জন্য সবকিছুই সরবরাহ করবেন।

এটাই হচ্ছে প্রকৃত কৃষ্ণজ্ঞান। যেমন- একটি শিশু যখন আমাদের কোনও দামী জিনিস নিয়ে নেয়, আমরা তখন তার তোষামোদ করি এই বলে, তুমি খুব ভাল, বাবা এই লজেন্সটা নাও আর আমাকে ওটা দিয়ে দাও।

কিছু সময় চিন্তা করে, শিশুটিও তখন বোঝে সত্যিই তো লজেন্সটা বেশী ভাল। সে তখন দামী জিনিসটা দিয়ে দেয়, এর কারণ সে অজ্ঞান।

কেউ এই জন্মে অতিরিক্ত ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ অথবা পরবর্তীতে ধনী হওয়া, এটা তার নিজের কৃতিত্ব নয়! এটা সমস্ত তার পূর্বজন্মের পূণ্য সঞ্চয়ের ফল।

পূর্বজন্মে মাঝপথে ভক্তি বিঘ্নিত হলে, এই জন্মে ভগবান তাকে নির্বিঘ্নে ভক্তি করতে পারার জন্য, ধনী হওয়ারও সুযোগ দেয়।

কিন্তু সে ধনী হয়ে এবং মায়ার প্রকোপে, সেই সমস্ত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, ধনী হওয়াটা নিজের কৃতিত্ব এবং সমস্ত ধন আমার এই মিথ্যা অহংকারেই মত্ত হয়ে যায়।

শাস্ত্রমতে, জগতের সমস্ত সম্পত্তির একমাত্র প্রকৃত মালিক তো পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ, তাই শাস্ত্রমতে অপরের সম্পত্তি হরণের শাস্তিরূপে তাকে নরকে যেতেই হবে।

আবার শাস্ত্রমতে, নিজের রোজগারের ১০%-এ অপরের অধিকার থাকে। সেই ১০% ও যদি আমরা নিজের করে রাখি, তবে অবশ্যই আমরা তাতে পাপ সংগ্রহ করছি।

তাই সাধুরূপী এইসব ভিক্ষুকেরা, পরোক্ষভাবে অজান্তে তাদের নরক গমন থেকেই রক্ষা করে। কেননা দান যে গ্রহণ করে সে কৃতজ্ঞ নয়! যে দান করে তার কৃতজ্ঞ ও নম্র থাকা উচিৎ।

সূত্রঃ বিভিন্ন পুরাণ তত্ত্ব !!

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।।

হে পরমেশ্বর