ঢাকামঙ্গলবার, ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:৫০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

*কৃষ্ণ* নামে আছে সুধা অমৃত সমান—

ESAHARA NEWS
জানুয়ারি ৫, ২০২৩ ১০:০৭ অপরাহ্ণ
পঠিত: 45 বার
Link Copied!

*কৃষ্ণ* নামে আছে সুধা অমৃত সমান—

এই নাম উচ্চারণে মিলিবে মুক্তি দান –

*হরে কৃষ্ণ*

ইমং বিবস্বতে যোগং প্রোক্তবানহমব্যয়ম্ ।

বিবস্বান্মনবে প্রাহ মনুরিক্ষ্বাকবেহব্রবীৎ ॥

অনুবাদঃ- *পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন—আমি পূর্বে সূর্যদেব বিবস্বানকে এই অব্যয় নিষ্কাম কর্মসাধ্য জ্ঞানযোগ বলেছিলাম। সূর্য তা মানবজাতির জনক মনুকে বলেছিলেন এবং মনু তা ইক্ষ্বাকুকে বলেছিলেন।

তাৎপর্যঃ- *এখানে ভগবান ভগবদ্গীতার ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। বহু প্রাচীনকালে সূর্যলোক আদি বিভিন্ন গ্রহলোকের রাজাদের ভগবান এই জ্ঞান দান করেন। সমস্ত গ্রহলোকের রাজাদের বিশেষ কর্তব্য হচ্ছে প্রজাপালন করা এবং সেই জন্য তাঁদের সকলেরই ভগবদগীতার বিজ্ঞান সম্পর্কে পূর্ণভাবে অবহিত হওয়া প্রয়োজন, যাতে তাঁদের প্রজাদের পারমার্থিক লক্ষ্যের দিকে তাঁরা পরিচালিত করতে পারেন। তাই ভগবানের কৃপায় এই জ্ঞান লাভ করে প্রাচীনকালের রাজারা মানুষকে কামনা-বাসনার জড় বন্ধন থেকে মুক্ত হবার পথ প্রদর্শন করতেন। মানব-জীবনের উদ্দেশ্যই হচ্ছে পারমার্থিক জ্ঞানের অনুশীলন করা এবং ভগবানের সঙ্গে তার যে নিত্য সম্পর্ক রয়েছে, সেই সম্বন্ধে অবগত হওয়া। তাই, সকল গ্রহলোকের ও সকল রাষ্ট্রের শাসকবর্গের কর্তব্য হচ্ছে, শিক্ষার মাধ্যমে, সংস্কৃতির মাধ্যমে ও ভক্তির মাধ্যমে জনগণকে এই জ্ঞান বিতরণ করা। পক্ষান্তরে বলা যায়, সকল রাষ্ট্রের কর্ণধার এবং সমাজের নেতাদের একমাত্র কর্তব্য হচ্ছে, কৃষ্ণভাবনার অমৃত বিজ্ঞান সকলের কাছে বিতরণ করা, যাতে প্রতিটি মানুষ এই মহাবিজ্ঞানের সুফল অর্জন করতে পারে এবং মানব-জীবনের সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে সাফল্যের পথে অনুসরণ করতে পারে।

*এই মহাকাল কল্পে সূর্যদেবের নাম বিবস্বান, তিনিই হচ্ছেন সূর্যলোকের অধীশ্বর। এই সূর্য থেকেই সৌরজগতের সমস্ত গ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রহ্মসংহিতাতে (৫/৫২), বলা হয়েছে—

এ জগতে হায় সেই বেশি চায়

আছে যার ভুরি ভুরি

রাজার হস্ত করে সমস্ত

কাঙালের ধন চুরি ………

এই কথাগুলোর সাথে সকলেই প্রায় পরিচিত । আমাদের মধ্যে থেকে প্রাপ্ত সঞ্চিত জ্ঞান থেকে সমাজে জ্ঞান দান, সঞ্চিত অর্থ থেকে সামান্য হলেও অর্থ দান, শিক্ষা থেকে শিক্ষা দান , দীক্ষা থেকে দীক্ষা দান—-

এই সমস্ত কিছু থেকে আদান-প্রদানের মাধ্যমে আমাদের কর্তব্য কর্ম পালন করা অবশ্য কর্তব্য । কিন্তু আমরা তা কতজনই বা পারি এই সমতা রেখে পথ চলতে —-