ঢাকাশনিবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১০:১৯

মহেশ্বর = মহা+ঈশ্বর বা শিবশম্ভু এর জন্ম সম্পর্কে বিজ্ঞান ও সনাতনী

ESAHARA NEWS
জানুয়ারি ৬, ২০২৩ ৬:২৪ অপরাহ্ণ
পঠিত: 40 বার
Link Copied!

হর হর মহাদেব

মহেশ্বর = মহা+ঈশ্বর বা শিবশম্ভু এর জন্ম সম্পর্কে বিজ্ঞান ও সনাতনী হিন্দু শাস্ত্রের যুক্তিপূর্ণ ব্যাখা।

হিন্দু শাস্ত্র মতে সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশের দেবতা হলেন মহাদেব। এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড ও মানুষ সৃষ্টির মূল কারিগর হলেন দেবাদিদেব মহাদেব।

একবার এক মুনি ভগবান শিবকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন শিবের পিতার নাম। সেই প্রশ্নে দেবাদিদেব মহাদেব উত্তর দিয়েছিলেন যে ব্রহ্মা হলেন শিবের পিতা।

তারপর ওই মুনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন আপনার পিতামহের নাম কি ? সেই প্রশ্নে মহাদেব উত্তর দিলেন যে বিষ্ণু হলেন তার পিতামহ।

তখন ওই মুনি আরও একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন আপনার প্রপিতামহ কে ? এই প্রশ্নের জবাবে শিব উত্তর দিয়েছিলেন যে, তিনিই হলেন তার প্রপিতামহ।

পৃথিবী সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বিগব্যাং থিওরী অনুযায়ী, পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছে একটি পিন্ড থেকে। ওই পিন্ডটিতে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয় এবং পৃথিবীর সৃষ্টি হয়।

সাধারণ ভাবে আমাদের প্রশ্ন জাগবে যে, এই পিন্ডটির উৎপত্তি কোথা থেকে ? কিন্তু বৈজ্ঞানিকরা এর সঠিক ব্যাখা দিতে পারেননি।

তারা মনে করে এই য, কোনও রহস্যময় ঘটনার ফলে এই পিন্ডটির উৎপত্তি। কিন্তু এই পিন্ডটির উৎপত্তি সম্পর্কে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। এই রহস্যময় জিনিসটি হলো অসমিত এনার্জি ও উর্জাতে পরিপূর্ণ ছিল।

আর এই রহস্যময় জিনিসটি হল সৃষ্টি স্থিতি ও বিনাশের দেবতা শিব। এই পিন্ডটির কখনও বিনাশ নেই আর শিবেরও কোনও সৃষ্টি, বিনাশ নেই।

বিজ্ঞানের মতবাদ অনুযায়ী কোনও বস্তু” কিছু না থেকে সৃষ্টি হয়ে কিছু তে শেষ হয়েছে। আমাদের এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সমস্ত বস্তু শিব থেকে এসেছে, আবার সেটি শিবেই মিশে যাবে।

শিব এই গোটা বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে বিরাজ করে। এক কথায় বলা যায় শিবই হল বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড। বিজ্ঞানের কথায় শক্তির সৃষ্টি ও বিনাশ নেই, শক্তিকে কেবল “এক রূপ থেকে অন্য রূপে” রূপান্তর করা হয়।

হিন্দু শাস্ত্র মতেও শক্তির অন্য রূপ শিবের কোন সৃষ্টি ও বিনাশ নেই। হিন্দু শাস্ত্র মতে শিবের অনেক রূপ রয়েছে। শিব পুরান অনুযায়ী আমাদের বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে ১১টি রুদ্রের রূপ রয়েছে।

আমাদের বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সঙ্গে রুদ্রের রূপের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে ওই পিন্ডটির অভ্যন্তরীণে যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তা শিবের তাণ্ডব নৃত্যের ফলে হয়ে ছিল।

আর এই নৃত্য কে বিজ্ঞানের ভাষায় কসমিক ড্যান্স বলে। শিবের এই রূপকে নটরাজ বলে। নটরাজ এর পিছনের গোলাকার চূড়াটি, ব্ল্যাকহোল কে নির্দেশ করে।

শিবের নৃত্যের এনার্জির ভাইব্রেশান থেকে এই চক্রের সৃষ্টি। এই চক্র থেকে যে আগুনের ছটা বেরোচ্ছে তা মেটারের প্রতীক।

এই আগুনের ছটার মধ্যে যে স্পেস রয়েছে, তাকে ভেকিউম স্পেস বলে। আর এই চক্রটিকেই সময় বলে।কাল চক্র বা সময় চক্রের শুরু করার ক্ষমতা একমাত্র মহাদেবের আছে।

আমাদের তখনই মৃত্যু হয় যখন আমাদের শরীরে এনার্জি অর্থাৎ শিব থাকেনা। এক কথায় বলা যায় শিব হীন দেহ শবে পরিণত হয়। অতএব আমাদের সকলের শরীরের মধ্যে শিব অবস্থান করে। সংশোধিত ।

ওম্ নমঃ শিবায়