ঢাকাশনিবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৯:১০

হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ থেকে কিছু

ESAHARA NEWS
জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ ১২:২৪ অপরাহ্ণ
পঠিত: 35 বার
Link Copied!

এবং স্বকর্মপতিতং ভববৈতরণ্যা-
মন্যোন্যজন্মমরণাশনভীতভীতম্
পশ্যঞ্জনং স্বপরবিগ্রহবৈরমৈত্রং
হস্তেতি পারচর পীহি মূঢ়মদ্য ৷

এবম্—এইভাবে; স্ব-কর্ম-পতিতম্—স্বীয় কার্যকলাপের ফলে অধঃপতিত, ভব অজ্ঞান জগৎ (জন্ম, মৃত্যু, জরা এবং ব্যাধি), বৈতরণ্যাম্—বৈতরণী নদীতে (যা যমালয়ের দ্বারে প্রবাহিত হয়), অন্যঃ অন্য—একের পর এক, জন্ম-জন্ম, মরণ- মৃত্যু; আশন—বিভিন্ন প্রকার আহার্য; ভীত-ভীতম্—অত্যন্ত ভীত হয়ে, পশ্যন— দর্শন করে, জনম্—জীব, স্ব—নিজের, পর-অন্যের বিগ্রহ —শরীরে, বৈর- মৈত্রম্—শত্রুতা এবং মিত্রতা, হস্ত—হায়, ইডি–এইভাবে, পারচর – মৃত্যুর নদীর অপর পারে স্থিত আপনি; পীগৃহি—দয়া করে আমাদের (এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করুন, মূঢ়ম— আমরা সকলে আধ্যাত্মিক জ্ঞানরহিত অত্যন্ত মূর্খ, অদ্য— আজ (যেহেতু আপনি স্বয়ং এখানে উপস্থিত হয়েছেন)।

অনুবাদ

হে ভগবান, আপনি সর্বদাই মৃত্যুনদীর অপর পারে চিন্ময়ভাবে অবস্থিত, কিন্তু আমরা আমাদের পাপকর্মের ফলে সেই নদীর এই পারে দুঃখ দুর্দশা ভোগ করছি। প্রকৃতপক্ষে আমরা এই নদীতে পতিত হয়ে বার বার জন্ম-মৃত্যুর যন্ত্রণা ভোগ করছি এবং অত্যন্ত ঘৃণ্য বস্তুসমূহ আহার করছি। দয়া করে আপনি আমাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করুন—কেবল আমার প্রতিই নয়, অন্য যারা কষ্টভোগ করছে তাদের প্রতিও এবং আপনার অহৈতুকী কৃপা ও অনুকম্পার প্রভাবে আমাদের উদ্ধার করুন এবং পালন করুন।

তাৎপর্য

শুদ্ধ বৈষ্ণব প্রহ্লাদ মহারাজ কেবল নিজেরই জন্য নয়, অন্য সমস্ত জীবদের জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। দুই শ্রেণীর বৈষ্ণব রয়েছে— ভজনানন্দী এবং গোষ্ঠ্যানন্দী। ভজনানন্দীরা কেবল তাঁদের ব্যক্তিগত লাভের জন্য ভগবানের আরাধনা করেন, কিন্তু গোষ্ঠ্যানন্দীরা অন্য সকলকে কৃষ্ণভক্তির স্তরে উন্নীত করার চেষ্টা করেন যাতে তারা রক্ষা পেতে পারে। যে সমস্ত মূর্খেরা জড়-জাগতিক জীবনের জন্ম, মৃত্যু এবং অন্যান্য দুঃখকষ্ট দর্শন করতে পারে না, তারা জানে না। পরবর্তী জীবনে তাদের কি হবে। প্রকৃতপক্ষে, জড় বিষয়াসক্ত এই সমস্ত মূর্খেরা পরবর্তী জীবনের কথা বিবেচনা না করে, এক দায়িত্বহীন জীবন-দর্শন তৈরি করেছে। তারা জানে না যে, তাদের কর্ম অনুসারে তারা চুরাশি লক্ষ বিভিন্ন যোনির কোন একটি যোনি প্রাপ্ত হবে। এই সমস্ত মূর্খদের ভগবদ্গীতায় দুষ্কৃতিনো মুঢ়াঃ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। যারা কৃষ্ণভাবনাময় নয়, সেই সমস্ত অভক্তদের পাপপূর্ণ কার্যকলাপে যুক্ত হতে হয়, এবং তাই তারা মূঢ়। তারা এতই মুঢ় যে, তারা জানে না পরবর্তী জীবনে তাদের কি হবে। যদিও তারা দেখে যে, বিভিন্ন জীবেরা নানা প্রকার কদর্য বস্তু ভক্ষণ করছে শুকরেরা বিষ্ঠা আহার করছে, কুমির সব রকমের মাংস আহার করছে—তবুও তারা বুঝতে পারে না যে, এই জীবনে সব রকম কদর্য ভক্ষণ করার ফলে, তাদের পরবর্তী জীবনে সব চাইতে ঘৃণ্য সমস্ত বস্তু ভক্ষণ করতে হবে। বৈষ্ণব সর্বদাই এই প্রকার জঘন্য জীবনের ভয়ে ভীত থাবেন, এবং এই প্রকার ভয়ঙ্কর অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য ভগবানের প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত হন। ভগবান তাঁদের প্রতি অত্যন্ত কৃপাময় এবং তাই তাদের মঙ্গলের জন্য তিনি আবির্ভূত হন।

যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত। অভূত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজামাহম্ ॥

“হে ভারত, যখনই ধর্মের অধঃপতন হয় এবং অধর্মের অভ্যুত্থান হয়, তখন আমি নিজেকে প্রকাশ করে অবতীর্ণ হই।” (ভগবদ্গীতা ৪/৭) ভগবান সর্বদাই অধঃপতিত জীবদের সাহায্য করতে প্রস্তুত থাবেন, কিন্তু যেহেতু তারা মূর্খ এবং দুষ্কৃতকারী, তাই তারা কৃষ্ণভক্তির পন্থা অবলম্বন করে না এবং শ্রীকৃষ্ণের নির্দেশ পালন করে না। তাই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, যিনি হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং, তিনি ভক্তরূপে কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন প্রচার করার জন্য এসেছিলেন। যারে দেখ, তারে কহ ‘কৃষ্ণ’-উপদেশ। তাই শ্রীকৃষ্ণের ঐকান্তিক সেবক হওয়া মানুষের কর্তব্য। আমার আজ্ঞায় শুরু হঞা তার এই দেশ (চৈঃ চঃ মধ্য ৭/১২৮)। প্রত্যেকের শুরু হয়ে ভগবদ্গীতার বাণী প্রচার করে, সারা পৃথিবী জুড়ে কৃষ্ণভাবনার অমৃত বিতরণ করতে হবে।

শ্রীমদ্ভাগবত, স্কন্ধ ৭, অধ্যায় ৯, শ্লোক ৪১